বিচারের আগেই ওরা আমাকে ফাঁসি দিয়ে দিল : মিন্নি

রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কু**** হ***র ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে ইঙ্গিত করে বরগুনার সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম দেবনাথ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ওই পোস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন খবর ও মিডিয়াতে যাকে এখন হিরো বানানো হচ্ছে মূল ভিলেন সে নিজেও হতে পারে, রিফাত শরীফের বন্ধুদের থেকে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে এটাই বোঝা যায়।’ সুনামের এমন পোস্ট দেওয়ার পর বখাটেরা মিন্নির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার যু**ে নেমে পড়েছে। যদিও এমপিপুত্রের সেই পোস্ট নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তিনি আ***কর অংশ মুছে ফেলেছেন। এমনকি এমপিপুত্র নতুন করে স্ট্যাটাস দিয়ে মিন্নির পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন। তাই বলে বখাটেরা দমে যায়নি। তাদের অপপ্রচার যু**ে স্বামী হারা মিন্নি এখন অনেকটাই বাকরুদ্ধ। নিজের ঘরেই অবরুদ্ধ তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথ কালের কণ্ঠকে বলেন,

‘রিফাত খু**ের ঘটনায় আমি খুবই ম*র্মাহত। সেই আবেগ থেকে অনেক স্ট্যাটাস দিয়েছি। ৩০ জুন যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলাম, তার একটি অংশ কিভাবে যেন ডিলেট হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অপপ্রচার নিয়ে মিন্নির একটি নিউজও আমি শেয়ার করেছি।’ গত ২৬ জুন সকালে মিন্নির সামনেই রিফাত শরীফকে কু**** র**াক্ত করে চলে যায় হা***কারী। এর একটি ভিডিও ভাইরাল হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘা***দের হা*** থেকে স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। একজনকে ঠেলে সরিয়ে দিলে আরেকজন এসে রিফাতকে কোপাচ্ছে। তিনি স্বামীকে বাঁচাতে বারবার চিৎকার করছেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। রিফাত খু**ের পর মিন্নির পরিবারের নিরাপত্তায় বরগুনা শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় তাঁর বাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি গত শুক্রবার থেকে তাঁর বাসার পেছনে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। পুলিশ এ পদক্ষেপ নেওয়ার পর মিন্নি নিরাপদে রয়েছেন। তবে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। এদিকে ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও শুধু মিন্নি নন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। অপপ্রচারের ভয়ে পরিবারের কোনো সদস্যই ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। অপপ্রচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাইরে বের হলে তারা হা***রও শিকার

হতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে মিন্নির ভাই-বোন স্কুলেও যাচ্ছে না। রিফাতকে কু**** হ***র ঘটনার পর অন্তত চার দিন এই প্রতিবেদক মিন্নির বাসায় গিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। মাস দুয়েক আগে রিফাতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁর সামনেই স্বামীকে কোপানো হয়েছিল। স্বামীকে হারিয়েছেন। এই দুটি ঘটনার সঙ্গে অপপ্রচারের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় মিন্নি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যখন মিন্নির কথা হচ্ছিল, তখন তিনি বলার ভাষার হারিয়ে ফেলেছিলেন। প্রশ্ন করলে কখনো অন্যমনস্ক থাকছিলেন। আবার কখনো কখনো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছিলেন। মিন্নির চোখে-মুখে বিষাদের ছায়া। মাঝে মাঝেই বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আমার স্বামীকে চোখের সামনে ওরা মে*রে ফেলল। আমাকেও ওরা বাঁ*চতে দেবে না। যেভাবে আমার বিরুদ্ধে ওরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাতে করে আমাকেও ওরা মৃ***র দিকে ঠেলে দেবে। এক দিকে স্বামী হা*রানোর ক*ষ্ট, আরেক দিকে অপপ্রচার, এর থেকে আমার মৃ***ই ভালো। কারণ বিচারের আগেই ওরা আমাকে ফাঁ**ি দিয়ে দিল।’ মিন্নি সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গতকাল রবিবার বিকেলে মুঠোফোনে মিন্নির বাবার সঙ্গে কথা হয়। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশ প্র*শা*সন আমার পরিবারের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। গত শুক্রবার বাসার পেছনে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সেখানে ১০ জন পুলিশ সব সময় দায়িত্ব পালন করছেন। তা ছাড়া প্রতিদিনই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাসায় এসে আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে

একটি পক্ষ আমার মেয়েকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেই মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার পরিবার নিয়ে এতটাই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে জনরোষের ভয়ে আম*রা বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমার ছেলে-মেয়েরা ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না। তবে পুলিশ সুপার মহোদয় বলেছেন, ছেলে-মেয়েরা চাইলে পুলিশের সহযোগিতায় স্কুলে যেতে পারবে। কিন্তু স্কুলের ভেতরে কে ওদের নিরাপত্তা দেবে। অপপ্রচারের কারণে মিন্নির শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনরাও বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমি অপপ্রচারের বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়কে একাধিকবার বলেছি। পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে— এই বলে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আম*রা পুলিশ প্র*শা*সনের দিকেই ন্যায়বিচারের আশায় চেয়ে আছি।’ অপপ্রচার প্রসঙ্গে বরগুনার সাংবাদিক মুশফিক আরিফ বলেন, ‘এখানকার আওয়ামী লীগ মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। তাদের মধ্যে আবার গ্রুপিং রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেয়। ফেসবুকে তাদের শত শত ভুয়া আইডি রয়েছে। একটি পক্ষ মিন্নির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আরেকটি পক্ষ সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই তো সেদিন, একটি আইডিতে নয়নের মায়ের ভুয়া ছবি দিয়ে এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে। শুধু মিন্নি নন, অপপ্রচার থেকে সংবাদকর্মীরাও রক্ষা পাননি। তবে এ ব্যাপারে প্র*শা*সন আরো উদ্যোগী হলে অপপ্রচার অনেকাংশে কমে আসত।’ বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের সঙ্গে গতরাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকাজে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেন। সুত্র: কালেরকন্ঠ।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *