মৃত্যুর আগে চিরকুটে যা লিখে গিয়েছেন অপূর্বর ভাই

অভিনেতা অপূর্বর ছোট ভাই জাহেদুল ফারুক দ্বীপ আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোর ৩ টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন।

সকাল আটটার দিকে আদাবর থানার কর্মরত পুলিশ মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকের ৬ নং রোডের একটি বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদাবর থানার ডিউটি অফিসার রোমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আজ ভোর বেলা তিনি মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকের ৬ নং রোডের নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। সকালে তার বাসায় গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সে সময় বাসায় দ্বীপের স্ত্রী খালেদা আক্তার (২৮) ও তার শ্বশুর-শাশুড়ী ছিলেন।

নিহত দ্বীপের বাবার উদ্ধৃতি দিয়ে ডিউটি অফিসার রোমান আরও বলেন, সে যেহুত গান করে প্রতিদিনের মত আজও সে মিউজিক রুমে ছিলেন। কাজের সময় ডাকলে দ্বীপ বিরক্তবোধ করবে বলে তার স্ত্রী নিজ রুমে শুয়ে পড়েন। মাঝরাতে ৩:৩০ মিনিটের দিকে স্ত্রীর ঘুম ভাঙলে রুমে গিয়ে দেখেন দ্বীপ সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মৃত্যুর আগে দ্বীপ নিজ হাতে লেখা একটি চিরকুট রেখে গিয়েছেন। সেখানে লেখা ছিল ‘আমার আত্মহত্যার জন্য কেউই দায়ী না। জীবনের পদে পদে হারতে হারতে এ দেহ নিয়ে বাঁচতে চাই না। আমি জানি পৃথিবীর কষ্ট কিছু না। মৃত্যুর পর অনেক কষ্ট হবে।’

তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বীপ সবার ছোট। সবার বড় আব্বাস ফারুক স্বপন এবং মেঝো জিয়াউল ফারুক অপূর্ব।

পোস্ট মর্টেম শেষে আজ বাদ মাগরিব শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্হানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান দ্বীপের দুর সম্পর্কের ভায়রা আবু জাফর।

উল্লেখ্য, অনেক দিন ধরেই মিউজিকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন দ্বীপ। গেল কিছুদিন আগেও দ্বীপের ‘ভালবাসি তোমায়’ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। গানটি থেকে ভাল সাড়াও পেয়েছিলেন। গানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন নাটক ও টেলিছবির আবহ সংগীত করতেন। অনেক নাটকের আবহ সঙ্গীত করার পাশাপাশি করেছেন নিজের ভাই অপূর্ব নাটকেরও। অপূর্ব অভিনীত ফার্স্ট লাভ, ড্রিম গার্ল সহ আরও নাটকের আবহ সংগীত করেছেন তিনি।

Share

Leave a Reply