চমক দিয়ে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টাইগারদের দল ঘোষণা

সেমিফাইনালের লক্ষ্য পুরণে সামনের পাঁচ ম্যাচের অন্তত তিনটিতে জয় একান্তই জরুরি। আপাততঃ প্রথম কাজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো। ১৭ জুন ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই হয়ে গেছে।

তাই কোচ, অধিনায়কসহ পুরো দলকে আজকের পয়েন্ট খোয়ানোর বেদনা চট জলদি ভুলে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের দিতেই চোখ রাখতে হচ্ছে। কিন্তু করতে হচ্ছে ক্যারিবীয়দের হারানোর। আঁটতে হচ্ছে রনকৌশল।

ক্রিস গেইল, সাই হোপ, হেটমায়ারের মত তুখোড় উইলোবাজকে থামানোর চিন্তাই করতে হচ্ছে বেশি। একই সঙ্গে এ মুর্হর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ এবং খুনে ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেলকে থামিয়ে রাখার কাজটিও করতে হবে বোলারদের। তামিম, সৌম্য, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ এবং মোসাদ্দেকদের সামলাতে হবে ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার ওশানে থমাস আর শেলডন কটরেলকে।

এসব নিয়ে কি ভাবছেন বাংলাদেশ দলের কোচ স্টিভ রোডস? এর মধ্যে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ হবে টনটনে। যেটা এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট ভেন্যু। আয়তনে আকারে ক্ষুদ্র। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা তো এই মাঠে ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতে পারে।

সুতরাং, টনটনে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের থামাতে বাংলাদেশের বোলারদের করণীয় কি? সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নর জবাবে স্টিভ রোডস বললেন, ‘আমরা শুধু ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে নিয়েই ভাবছি না। আমাদের চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনায় আছে বাকি সব দলও, যাদের সাথে আমাদের খেলা বাকি আছে- তাদের সবার কথাই ভাবছি।’

আগের ম্যাচগুলোর প্রসঙ্গ টেনে কোচ রোডস বলেন, ‘আমরা আগের তিন খেলা থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। রপ্ত করেছি। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা সেভাবে শর্ট বলে ভড়কে যায়নি। বেশ আস্থার সাথে প্রতিপক্ষের খাট লেন্থের বলগুলো মোকাবিলা করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শর্ট বল বেশ ভাল খেলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। ইংল্যান্ডের অর্চারকেও মন্দ খেলেনি আমাদের ব্যাটসম্যানরা।’

তো তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরিকল্পনা কি? কোচ বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে আমরা খেলে আসলাম মাত্র। আয়ারল্যান্ডে যদিও ওশানে থমাস ছিলেন না। তবে তাকে আমরা এ বছরই পেয়েছি নিজেদের দেশে। কাজেই আমরা সচেতন আছি। করণীয়ও মোটামুটি স্থির করা আছে। এখন মাঠে তা প্রয়োগটাই আসল।’

আপনি বললেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে এবং আয়ারল্যান্ডে পেয়েছেন, দেখেছেনও। ক্যারিবীয়দের কোন জায়গাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে? দলটিতে গেইল, সাই হোপ আর আন্দ্রে রাসেলের মত বিপজ্জনক এবং বিধ্বংসী সব ব্যাটসম্যানরা আছেন। তাদের থামাতে কোন বিশেষ পরিকল্পনা? এছাড়া ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলারদের শর্ট বলের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা কি করবে?

এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ কোচ একটু ঘুরিয়ে উত্তর দিয়েছেন। তিনি আন্দ্রে রাসেলকে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও কার্যকর অস্ত্র বলে অভিহিত করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, ক্যারিবীয়দের প্রধান অস্ত্র হলেন আন্দ্রে রাসেল। এখন তিনি বিশ্বের সেরা হিটার। তার দিনে সব কিছু করতে পারেন। প্রতিপক্ষ বোলিং দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন। তার বিপক্ষে বল করা এবং তার বিধ্বংসী উইলোবাজি আটকে রাখা খুব কঠিন।’

আন্দ্রে রাসেলকে ঠাণ্ডা রাখাটাই মূল লক্ষ্য রোডসের। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় আন্দ্রে রাসেলের কথা ভাবা হচ্ছে বিশেষভাবে। আমি বিশ্বাস করি আন্দ্রে রাসেলকে ঠান্ডা রাখতে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আর শর্ট বল নিয়ে আমি ভীত নই। আশা করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা শর্ট বল মোকাবিলা করবে ভালভাবেই।

বাংলাদেশ ট্মের একাদশেও পরিবর্তন চান প্রধান কোচ স্টিভ রোডস, তিনি জানান দলে একজন ভালো গতিময় পেসার দরকার সেক্ষেত্রে রুবেলের বিপল্প আর কেউ নেই।উইন্ডিজের বিপক্ষে কেমন হবে একাদশ তা কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ স্টিভ রোডস।দল যেহেতু উইন্ডিজ সেহেতু হার্ড হিডার প্র্যোজন সেক্ষেত্রে দরকার সাব্বির রহমানকে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশঃ তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ,রুবেল হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান।

Leave a Reply