বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আকর্ষিক অভিযানে মাদকসহ শিক্ষার্থীদের আটক করে পুলিশের ভ্রাম্যমান আদালত (ভিডিও)

কর্ণফুলীতে ভয়ঙ্কর মাদকসম্রাজ্ঞী মদ্দা হোসনীর অত্যাচারে অতিষ্ট জনগণ

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের ভয়ঙ্কর অত্যাচারে অতিষ্ট কর্ণফুলীতে বড়উঠানবাসী। দিন দিন সাধারণ মানুষ মাদকসেবীদের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে।

হাজারো অভিভাবক বড় চিন্তিত তাদের স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে। যদিও বড়উঠানের চেয়ারম্যান মাদকের বিরুদ্ধে এলাকায় যুদ্ধ করছেন।

জানা যায়, উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার ৫নং ওর্য়াড রাজ্জাক পাড়ার হোসনে আরা (প্রকাশ মদ্দা হোসনীর) বাড়িতে বহিরাগত মাদকসেবীরা এসে প্রতিদিন ভীড় জমায়। এখানে এসে মাদক সেবনের আড্ডা বসে অপরাধীরা, এতে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করলেও তাদেরকে যুবতী মেয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন এলাকাবাসী জানায়, নিজ স্বামীকে হত্যাকারী তথা হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী হোসনে আরা এর নেতৃত্বে শাহমীরপুর রাজ্জাক পাড়া ৫নং ওয়ার্ডে বসে গাঁজার আসর, ইয়াবা মাদক সেবনসহ আরো অনেক অপকর্মের নানা ছক।

আশেপাশের কিছু চিহৃিত মাদকসেবী যারা একাধিক মামলার পলাতক আসামী তারা এসে এ ধরনের কর্মকান্ড যোগ দিচ্ছে। এতে বড়উঠান, শাহমীরপুর, ফকিরন্নীরহাট সহ রাজ্জাকপাড়া গ্রামের উঠতি যুবক শ্রেণী মাদকের ছোবলে দিন দিন বখাটে হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ইভটিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

যেমনটি ঘটেছে কিছুদিন পুর্বে শাহমীরপুরে ডাকাতি ও চার তরুণী ধর্ষণের মতো চাঞ্চন্যকর ঘটনা। যা এখনো রেশ কাটেনি জনমনে রয়ে গেছে আতংক। কেননা মাদকসেবীরা যে কোন সময় ঘটাতে পারে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি। প্রতিদিন ফকিরন্নীরহাট বাজারে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়, এসব মাদকাসক্ত বকাটেদের। দেখা নেই তাতে টহল পুলিশের।

অন্যদিকে, স্বামী খুনের মামলায় জেল থেকে বের হওয়া ও গাঁজা নিয়ে অতীতে গ্রেফতার হওয়া বহু বিতর্কিত মহিলা মদ্দা হোসনী এখন কর্ণফুলীর বড়উঠানসহ বহু গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম।

তথ্য পাওয়া যায়, ২ বছর পুর্বে জেলে থাকা অবস্থায় হোসনীর সাথে পরিচয় হয় মাদক কারবারী একটি সিন্ডিকেটের। যার ফরশ্রুতিতে জেল থেকে বেরিয়ে গ্রামে এসে পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বনাশা মাদক গাঁজা ও ইয়াবা। সাধারণ মানুষও গ্রামের বহু পরিবার এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে এই মাদক সম্রাজ্ঞীর কাছে। এ পরিবারে থাকা ২টি ছেলে ও ৩টি মেয়েও প্রতিনিয়ত নানাভাবে এলাকার নিরীহ গ্রামবাসীকে মাদক সেবনে উৎসাহী করছে, এমন অভিযোগও ভুরি ভুরি।

মদ্দা হোসনীর বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় খুনের মামলাসহ নানা অভিযোগ থাকলেও পুলিশের নীরব ভূমিকা প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। অন্যদিকে বড়উঠানের সাধারণ মানুষ ফুঁসে উঠেছে এসব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে।

চরিত্রহীন অসামাজিক এমন কর্মকাণ্ডে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে কর্ণফুলীর বিভিন্ন পরিবারে। যে কারণে অনেক সংসারও ভেঙ্গেছে। তার এ কর্মকাণ্ড ও নির্যাতনের কারণে বিয়ে করার পর সংসার টিকেনি। নিজের নামের আগে হোসনী যুক্ত করেছেন স্বামী খুনের বিশেষণ ও মাদক কারবারির তকমা।

সুত্র জানায়, মাদক বেচাকেনায় দুর দুরান্ত থেকে অপরিচিত মহিলারা প্রায়শ তার রাজ্জাক পাড়ার সেমি পাকা বাসায় আনাগোনায় রয়েছে। গ্রামের বিলের মাঝে নির্জন বাড়িতে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম। যদিও স্থানীয় সমাজের মুরুব্বীরা নানা বাধা দিলেও মানছেনা, উল্টো নানা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

এসবের নেপথ্যে কারা, সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও কি করে কর্ণফুলী থানা অনেকটা নীরব, তা নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলেছে।

এলাকার ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, আমরা এই পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করছে বলে নানা অভিযোগ পেয়ে থাকি। তবে মাদক কারবারি মহিলা সদস্য হওয়ায় বাধা দিতে জটিলতা মনে হওয়ায় স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছেন বলে তথ্য দেন তিনি।

হাবিবুল্লাহ নামে আরেক স্থানীয় লোক জানান, ড্রাইভার আবু শামার মেয়ে হোসনে আরার কোন এক সময় বিয়ে হয়েছিলো শহরে এক লোকের সাথে। স্বামী হত্যার দায়ে গ্রেফতার হয়ে জেলে যায়। পরে আদালত হতে জামিনে মুক্ত হয়ে শহর হতে গ্রামে ফিরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই মাদকসম্রাজ্ঞী মদ্দা হোসনী শাহমীরপুরে গড়ে তুলেছেন একটি বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেটে রয়েছে একাধিক নারী সদস্য। যারা শুধু গাঁজাই নয়, এলাকায় ছড়িছে দিচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবাও। যদিও গ্রামের অনেকেই ভয় পায়, কেননা তাদের বাসায় যুবতী মেয়ে কিংবা অপরিচিত নানা মহিলার আনাগোনা বড় রহস্যময়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে তাদের বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলেও কেহ কথা বলতে রাজি হয়নি।

মাদকসম্রাজ্ঞী মদ্দা হোসনীর কার্যকলাপ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়উঠানের চেয়ারম্যান মোঃ দিদারুল আলম জানান, মহিলাটা খুবই বিপদজনক এবং সবসময় ইয়াবা গাঁজা ও বিভিন্ন মাদকের সাথে জড়িত। যা প্রশাসন ছাড়া কেহ দমাতে পারবেনা।

অপরদিকে কর্ণফুলী এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে তেমন দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা হচ্ছেনা কেন? জনগণের এমন প্রশ্ন আর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন) সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, কর্ণফুলীতেও মাদকের বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত মাদক নিয়ন্ত্রণে যে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে তা সফলে পুলিশ বদ্ধ পরিকর যা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply